১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান

সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং

পৃথিবী থেকে প্রায় ১৪৬ আলোকবর্ষ দূরে একটি সম্ভাব্য বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘এইচডি ১৩৭০১০ বি’ নামের সদ্য আবিষ্কৃত এই গ্রহটির পরিবেশগত অবস্থা মঙ্গল গ্রহের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তারা। গ্রহটি সূর্যের মতো একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে এবং আকারে পৃথিবীর তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বড়।

অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিজ্ঞানীদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল ২০১৭ সালে নাসার কেপলার স্পেস টেলিস্কোপের বর্ধিত মিশন ‘কে২’ থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গ্রহটির সন্ধান পান। গবেষণাটি চলতি সপ্তাহে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের গবেষক ড. চেলসি হুয়াং জানান, গ্রহটির কক্ষপথ পৃথিবীর মতো এবং এর কক্ষপথ পরিক্রমণকাল প্রায় ৩৫৫ দিন। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, গ্রহটি তার নক্ষত্রের ‘হ্যাবিটেবল জোনে’ থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ।

হুয়াং বলেন, সূর্যের মতো নক্ষত্রের হ্যাবিটেবল জোনে থাকা নিকটতম অন্য গ্রহ কেপলার-১৮৬এফ হলেও সেটি এই নতুন গ্রহের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি দূরে এবং উজ্জ্বলতায়ও প্রায় ২০ গুণ কম।

গ্রহটি প্রথম শনাক্ত করা হয় যখন এটি স্বল্প সময়ের জন্য নিজ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। তখন নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা সামান্য হ্রাস পায়। এই ক্ষীণ সংকেত প্রথম শনাক্ত করেন একদল স্বেচ্ছাসেবী ‘সিটিজেন সায়েন্টিস্ট’। তাদের মধ্যে গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ড. আলেকজান্ডার ওয়েইনারও ছিলেন, যিনি সে সময় হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ওয়েইনার জানান, হাইস্কুলে পড়ার সময় তিনি ‘প্ল্যানেট হান্টার্স’ নামের একটি সিটিজেন সায়েন্স প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন, যা তার গবেষণায় বড় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন।

গবেষকরা জানান, গ্রহটির নক্ষত্রটি আমাদের সূর্যের তুলনায় শীতল ও কম উজ্জ্বল। ফলে গ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা মঙ্গল গ্রহের মতো হতে পারে, যা মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যেতে পারে।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ